অর্শ বা পাইলসের সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। পাইলসের সমস্যা বিভিন্ন কারনে হতে পারে, তার মধ্যে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা, দীর্ঘ মেয়াদী কাশির সমস্যা, প্রস্রাবে বাধা, গর্ভধারণ, মলদ্বারে ক্যানসার অথবা নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাইলস হলে আপনার মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে যাওয়া মূলত এই ধরণের উপসর্গ দেখা দিবে। তবে পাইলস এর জন্য ভীত হবার কোনো কারন নেই। পাইলসের নানা ধরণের চিকিৎসা রয়েছে। সমস্যা কতটা গভীর তার উপরও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। কখনও শুধু ওষুধেই কাজ দেয়, কখনও আবার সমস্যা এতটাই বেড়ে যায় যে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। তবে পাইলসের সমস্যায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার আছে যা অত্যন্ত উপকারী এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পূর্ণরুপে আরোগ্য সম্ভব।
১। র্যাডিশ বা মূলার জুস ঃ মূলা আমাদের কাছে একটি অতিপরিচিত সবজি। এই সবজিটি অনেকে পছন্দ করে, আবার অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু এই সবজিটি পাইলসের সমস্যায় অত্যন্ত উপকারি। এই সবজির রস খেলে পাইলসের সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। প্রথমে ১/৪ কাপ দিয়ে শুরু করুন। তারপর পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ১/২ কাপে নিয়ে আসুন।
২। কলা ঃ - কলা আমাদের সকলেরই পছন্দ। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সবচেয়ে উপকারি এবং অব্যর্থ ওষুধ হল কলা। বিনা কষ্টে মলত্যাগ করতে সাহায্য করে কলা। এর ফলে মলদ্বারে কোনও চাপ পড়ে না, ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি হয় না।
৩। ডুমুরঃ গ্রাম অঞ্চলে ডুমুর অনেক পরিচিত। শুকনো ডুমুর বা ফিগ ১ গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এই অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। আবার বিকেলের দিকে বাকি অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। পাইলসের সমস্যায় ভাল ফলাফল পাবেন।
৪। বেদানাঃ বেদানা খেতে আমাদের সকলেরই খুব পছন্দ। এই ফলটি পাইলসের সমস্যার জন্য অনেক উপকারি। প্রথমে বেদানার দানা পানিতে ভাল করে ফোটান। যতক্ষণ না বেদানার দানা ও পানির রং বদলায়ে না যায়, ততক্ষণ ক্রমাগত ফুটিয়ে যান। এই পানি ছেঁকে রেখে দিন। দিনে দুবার করে এই পানি পান করুন। নিশ্চয় উপকার পাবেন।
৫। আদা ও লেবুর রস: আদা ও লেবুর রস আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। আর আদা ও লেবুর রস পাইলসের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে থাকে। ডিহাইড্রেশনও পাইলসের অন্যতম কারণ। আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তাতে ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটি খান। এতে শরীরে হাইড্রেট হবে এবং পাইলসের সমস্যাও কমবে।
৬।প্রাতঃকর্মের সময় বসার ধরণঅনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে কমোডে বসার ফলে অতিরিক্ত চাপের প্রয়োজন হয়। পায়ের নিচে একটা ছোট টুল রাখুন। কমোডে বসার সময় একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসুন। এতে বৃহদন্ত্রের কম চাপ পড়বে। এতে করে পাইলসের সমস্যা কম হতে পারে।
সূত্র ঃ সংগৃহীত


0 Comments