অমলবাবু ভূগোল পড়াতেন। তিনি ম্যাপ নিয়ে ক্লাসে আসতেন। দেওয়ালে ম্যাপ টাঙ্গিয়ে তিনি একে একে ছাত্রদের ডাকতেন এবং কোনো এক বিশেষ স্থান, নদী, রাজধানী, পর্বত ইত্যাদি খুঁজতে বলতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাত্ররা ব্যর্থ হত।
তখন অমলবাবু সস্নেহে সেই বিফল ছাত্রকে কাছে ডাকতেন এবং শান্ত স্বরে জিজ্ঞাসা করতেন 'ফুচকা খাবি?
দিল্লী দেখবি?
'বলাই বাহুল্য, ভীরু ছাত্র মাথা নাড়ত, উপায়হীন। অতঃপর, অমলবাবু সেই ছাত্রের জুলফিদ্বয় দুই হাতের আঙুলে ধরে উপরের দিকে আকর্ষণ করতেন। তখন, সেই অসহায় বালক দুই পায়ের আগুলে ভর দিয়া মাধ্যাকর্ষণ অগ্রাহ্য করে দন্ডায়মান হত। নীচে নামিলে অধিক ব্যথার উদ্রেক হবে। জুলফির আকর্ষণে পদযুগল মাটি ছেড়ে উপরে গেলে অধিকতর যাতনা! এইরূপ ত্রিশঙ্কু অবস্থায় শাস্তিপ্রাপ্ত বালক ত্রাহি ত্রাহি রব ছাড়ত। এতে হাস্যরসের উপাদান থাকলেও সহপাঠীরা আদৌ কৌতূক পেত না। ঘুঁটে পুড়ে যেত, কিন্তু গোবরও হাসতো না। শরতের আমলকী বনের ন্যায় বালকগণের বুক আশংকায় দুরুদুরু করত। না জানি কখন কার ডাক পড়ে? কাস্পিয়ান সাগর বা রাইন নদী চিহ্নিত না করতে পারলে অদৃষ্টে অমলবাবুর ফুচকা বা দিল্লী দর্শন পাক্কা ছিল।
হারানো দিনগুলো, এখন শুধু স্মৃতির পাতায়.........।


0 Comments