Games

The Voice of Murarai

দেশে দারিদ্রে পঞ্চম বীরভূম, ষষ্ঠ মুর্শিদাবাদ

Children
চার মাপকাঠির অন্যতম অবশ্যই দারিদ্র। অন্য তিনটি হল পরিকাঠামো, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য। এই চার নিরিখে দেশের সব চেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার তালিকায় প্রথম দশে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলা বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ। দারিদ্র এবং অন্যান্য মাপকাঠিতে বীরভূমের স্থান পঞ্চম আর মুর্শিদাবাদের ষষ্ঠ।
সম্প্রতি কেন্দ্রের নীতি আয়োগ সারা দেশে পিছিয়ে পড়া এলাকা হিসেবে ১১৫টি জেলাকে চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে এ রাজ্যের পাঁচটি জেলা রয়েছে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ছাড়া রাজ্যের বাকি তিন জেলা হল মালদহ, নদিয়া ও দক্ষিণ দিনাজপুর।
এই প্রথম নয়। এর আগে, ২০০৭ সালেও ২৭২ জেলাকে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। যাকে বলা হতো ব্যাকওয়ার্ড রিজিওনাল গ্র্যান্ট ফান্ড (বিআরজিএফ)। কিন্তু পিছিয়ে পড়া জেলার উন্নয়নে কেন্দ্রের দেওয়া অর্থের গড়ে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে পেরেছে রাজ্যগুলি।
এ বার তাই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি পিছিয়ে পড়া জেলার জন্য এক জন কেন্দ্রীয় অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বলা হচ্ছে ‘প্রভারি’। ওই অফিসার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের যোগাযোগ রেখে কাজ করবেন। নীতি আয়োগ সূত্রের খবর, যে-চারটি নিরিখে ১১৫ জেলার তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্যে পরিকাঠামোর মাপকাঠি তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার বিদ্যুৎ, সড়ক, পানীয় জল এবং শৌচালয়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে।
নীতি আয়োগের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রভারিরা জেলা, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ স্থাপন করবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সেচ, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সারা বছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করবেন তাঁরাই।’’ এই কাজে নজরদারির জন্য নীতি আয়োগ উচ্চ স্তরের একটি কমিটি তৈরি করবে বলে জানান ওই কর্তা।
১১৫টি জেলাকে চিহ্নিত করার পরে সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের চিঠি দিয়ে নীতি আয়োগের তরফে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২২-এর মধ্যে ‘নয়া ভারত’ (নিউ ইন্ডিয়া) গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে-স্লোগান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করার জন্যই ১১৫টি জেলার উন্নয়নকে পাখির চোখ করছে কেন্দ্র। কারণ, ওই সব জেলার উন্নয়ন না-হলে দেশের সার্বিক ও সুসংহত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছে দিল্লি। আগামী অর্থবর্ষের বাজেটে ওই ১১৫টি জেলার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
১১৫ জেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি (১৯টি) জেলা ঝাড়খণ্ডের। নীতি আয়োগের কর্তারা জানাচ্ছেন, বিহার, ঝাড়খণ্ডের কিছু জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলা আছে সব চেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার তালিকায়। প্রশ্ন উঠছে: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, কোচবিহারের মতো জেলা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ল কেন? অগস্টে প্রকাশিত বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের অনগ্রসর জেলার তালিকাতেও বাঁকুড়া, কোচবিহার, দার্জিলিঙের উল্লেখ ছিল।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চার মাপকাঠির কোনও কোনওটি এগিয়ে থাকার সুবাদে কিছু অনগ্রসর জেলা নীতি আয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারে। যেমন শিক্ষার মাপকাঠিতে কোনও জেলা হয়তো মহিলাদের সাক্ষর করে তোলার কাজে এগিয়ে রয়েছে। অথবা ব্যাপক টিকাকরণের সুবাদে কোনও জেলা হয়তো স্বাস্থ্যে অন্যান্য জেলার থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। তাই অন্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও তার জায়গা হয়নি ওই তালিকায়।

Post a Comment

0 Comments