সিকিম মানেই আলাদা অনুভূতি, গা শিরশিরে আকর্ষণ। কর্মসূত্রে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনের অনেকগুলো বছর কাটল সিকিমে। অজান্তে ভালবেসে ফেলেছি ছয়না, রাম্রো ও দাজু শব্দগুলোকে। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট রাজ্য, স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর. পাহাড়র বুক চিরে সরু রাস্তা, কিছু দূর এগোলেই নাম না জানা ছোট্ট ছোট্ট খোলা (নদী)। পাশেই কোন না কোনও একটা ছোট্ট জনপদ। রাতের আঁধারে টিমটিম করে জ্বলে বৈদ্যুতিক বাতি আর সরু রাস্তা বেয়ে চলা ছোট্ট গাড়ীর হেডলাইট, তখনই বুজতে পারি, রাস্তার অস্তিত্ব।
ভারতের সিকিমের প্রবেশপথ রংপো থেকে মাত্র ৫৫ কিলোমিটার ও সিংতাম থেকে মঙ্গন যাওয়ার পথে ৪০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম লুম। অপূর্ব সুন্দর এই জায়গাটিতে এখনও সে ভাবে পা পড়েনি পর্যটকদের।নর্থ সিকিম জেলার ছোট্ট গ্রাম, সে গ্রামে পৌঁছাতে গেলে এক বিখ্যাত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ড্যামের উপর দিয়ে তিস্তা নদীকে পার করে যেতে হবে। ২০০০ সালের আগে এই গ্রামটি এক কথায়, বাকী পৃথিবী থেকে আলাদা ছিল।জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হওয়ার পরে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এখানে ভুটিয়া এবং লেপচা (মুলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ)জনজাতি মিলেমিশে বসবাস করেন। ফলে সুন্দর এক মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামটি ঘিরে। গ্রামটির অন্যতম আকর্ষণ জৈব চাষ। এখানে যে সব শস্য উৎপাদিত হয় তার কোনওটির ক্ষেত্রেই রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। আরও উৎসাহের জন্য লুম গ্রামে ,২০১৬ সালে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পবন কুমার চামলিং, জৈব চাষের বিশেষ প্রদর্শনীর যাত্রারম্ভ করেন। এই গ্রামের কমলা লেবুর স্বাদ নিঃসন্ধেহে স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। গ্রাম বাসীরা অন্যান্য সময় এলাচ চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এখানে পর্যটকদের থাকা ও খাওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই, নিকটে ডিকচু- এক ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ, সেখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। লুম গ্রামে ট্রেকিং করার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। তবে লুমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শতাব্দী প্রাচীন ঝর্না, ঝরেই চলেছে। বিশেষ ভাবে উল্লেখনীয়, বেশ কয়েকশো প্রজাতির রংবিরঙ্গের প্রজাপ্রতির দেখা মেলে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ড্যামের উপর থেকে পাক্কা ৫ কিলোমিটার হাঁটা পথ, তবে এখন ছোট্ট গাড়ি চলাচল করে। ট্রেকিং করে বেশ কয়েকবার সেই গ্রামে গিয়েছি, আপ্যায়ান বেশ ভাল পেয়েছি প্রতিবারেই। সেই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যের সাথে বেশ পরিচিতি হয়ে গেছে। একটি হাইস্কুলও আছে সেখানে, তবে ছাত্র সংখ্যা খুব কম। এখানে এসে পড়লেই মনপাখিটা আমার বুকের পিঞ্জর থেকে বেরিয়ে এসে এদিক-ওদিক উড়তে শুরু করে। কখনো উত্তুঙ্গ পর্বতশীর্ষ, কখনো বনানীর সবুজাভ হিন্দোল, কখনো-বা স্নিগ্ধ প্রপাতের ধ্বনি ওর ডানায় প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। এক টুকরো নীল আকাশ মেঘছায়ার অবিরত লুকোচুরি খেলা।, তুষারের সান্নিধ্যে গড়ে ওঠা কোনো সূর্যাস্ত কিংবা পাহাড়ঘেরা জলাশয়ের অনাবিল সৌন্দর্যে সে তার নিজস্ব পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়।
তথ্য ও লেখা ঃ এম ওয়াসিক আলি, মুরারই।
তথ্য ও লেখা ঃ এম ওয়াসিক আলি, মুরারই।


0 Comments