Games

The Voice of Murarai

গ্রহ গড়ার লক্ষে চার বঙ্গসন্তান, সম্মতি দিল নাসা


রক্তিম সাহা : চিন্ময় রায় অভিনীত ‘চার মূর্তি’র কথা নিশ্চয়ই আপনাদের অজানা নয়। টেনিদা মহাশয় কী রকম মেফিস্টোফিলিস-র দামামা বাজিয়ে হাস্যরসে ভরিয়ে তুলত দর্শকদের। অনেকটা চারমূর্তির মতোই পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের গর্বিত করল নারায়ণা স্কুলের নবম শ্রেণির চার ছাত্র। কাজি জিনেদিন খের, আরিয়ান সেন চৌধুরি, অম্বরীণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কভিদ ভাদুরি। তাদের তৈরি প্রোজেক্টকে সম্মতি দিল নাসা। কী সেই প্রোজেক্ট? কীভাবে পেরোল এতটা পথ? কীভাবেই বা আসল সাফল্য? এসব কথা বিশ্ব বাংলা সংবাদকে জানালেন চার মূর্তির এক মূর্তি কাজি জিনেদিন খের।

সময়টা ছিল ডিসেম্বর 2016। স্কুলের প্রতিটা ক্লাসে বলা হয় “স্পেস সেটলমেন্ট” নিয়ে প্রোজেক্ট করতে হবে। তবে একা নয়; গ্রুপ করে। যথারীতি আমরা চার বন্ধু আমি, আরিয়ান, অম্বরীণ আর কভিদ মিলে একটা দল বানিয়ে ফেললাম। এবার আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কী এই স্পেস সেটলমেন্ট? পৃথিবীতে দূষণ যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে আর কতদিন পৃথিবীর বুকে মানষের থাকাটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তাই মানুষের কাছে উপায় মাত্র দুটি। 1. হয় মানুষরা অন্য গ্রহে গিয়ে বসবাস শুরু করবে। আর না হয় 2. মানুষ নিজেই অন্য গ্রহ তৈরি করবে। আর সেই অন্য গ্রহটির নামই হল “লেবন 1”। লেবন একটি জার্মান শব্দ যার বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় প্রাণ। আর ওয়ান অর্থাৎ আরও একটি প্রাণ। আমাদের হাতে তৈরি মানুষ বসবাসের বলা চলে পারফেক্ট ডেস্টিনেশন। যেখানে মানুষ থাকবে, শিল্প থাকবে, থাকবে নিউক্লিয়ার প্লান্টও। তবে কোনও প্রাকৃতিক বা কৃত্তিম কারণে মানুষের কোনও সমস্যা হবে না। কারণ পুরোটাই আধুনিক এবং অনেক বেশি যথার্থভাবে সাজিয়েছি আমরা। লেবন 1 তৈরির পিছনে রয়েছে ফিজিক্স, রয়েছে কেমিস্ট্রি এমনকি বায়োলজিও।
স্কুল থেকেই আমাদের সকলের প্রোজেক্ট পাঠানো হয় নাসায়। আর তারই ফলাফল আমাদের কাছে এসে পৌঁছয় মাত্র তিনদিন আগে। বিশ্বাস করুন ভাবিনি এমনটা হয়ে যাবে। অ্যাস্ট্রোনট হওয়ার পরিকল্পনা তো কোনওদিনই ছিল না। বরং আমি কার্ডিও সার্জন হতে চাই। তবে প্রোজেক্ট নিয়ে চারজনই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি।
ক্রান্তি কুমার (ক্রান্তি স্যার)
কয়েকজনের কথা না বললেই নয়। প্রথমত, আমার মা-বাবার আশীর্বাদ ছাড়া আমি কিছুই করতে পারতাম না। দ্বিতীয়, ক্রান্তি স্যার। যিনি আমাদের এই প্রোজেক্ট নিয়ে গাইড করেছেন। এছাড়াও প্রিন্সিপাল ম্যাম, মৈত্রেয়ি ম্যাম, জগন স্যার আর ভেণুগোপাল স্যারকে আমি সবার হয়ে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। যাঁরা পাশে না থাকলে এই অসাধ্য সাধন কোনও মতেই সম্ভব ছিল না।

আগামী মাসের 25 তারিখ নাগাদ আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার কথা এই বঙ্গসন্তানদের। সেখানেই বিশ্বের বাকি সকল ছাত্রদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যাবে জিনেদিন, আরিয়ান, কভিদ, অম্বরীণদের। তাই বলা চলে, আমাদের খুদেরাই যেভাবে এগোচ্ছে বা তাদের ভাবনা যে উচ্চতায় যাচ্ছে, তাতে করে আপনার মনে “লেবন 1”-এ থাকার যে বাসনা জেগেছে, তা মিটতে আর বেশিদিন লাগবে না।
http://biswabanglasangbad.com/2017/03/31/nasa-narayana-kolkata-westbengal-india-school-astronomy/

Post a Comment

0 Comments