দাদু, একটা গল্প বল।
দাদু শুরু করলেন।
একবার কাঠগড়ায় আসামিকে তোলা হল। আসামি দাঁত বের করে কাঠগড়ায় উঠল। বিচারক চশমার ফাঁক দিয়ে সেটা দেখে প্রশ্ন করলেন, ‘আসামি কি মানসিক ভারসাম্যহীন?’
উকিল বলেন, ‘জ্বি না হুজুর’
‘তাইলে হাসে কেনো?’
উকিল বলে, ‘ইয়ে, না মানে খুন করেছে তো, তাই’।
বিচারক হাঁক দিয়ে বললেন, ‘খুন করে আবার হাসেও! ব্যাটা আহাম্মক!’
আসামি হাসতে হাসতে বলে, ‘হুজুর, আমি একটা খুন করি নাই। সাতটা খুন করেছি!’
বিচারক অবাক হয়ে বলেন, ‘তো নির্লজ্জের মতো হাসছো কেন?’
‘সাত খুন মাফ না হুজুর?’
গল্পের এই পর্যায়ে নাতি জিজ্ঞেস করল, ‘সাত খুন মাফ কেন দাদু?’
দাদা বলতে থাকলেন, ‘বাংলা বাগধারায় ‘সাত খুন মাফ’-এর অর্থ অত্যাধিক প্রশ্রয়। শোনা যায়, অনেক দিন আগে এক সেনাপতির ছেলে ও তার খালাতো ভাইরা ব্রাশফায়ার করে কিছু প্রজা মেরে ফেলে’।
রাতুল দাদার ওপর এবার বেশ বিরক্ত হয়। সে ছোট, তাই বলে এত ছোট না যে রাজাগজাদের যুগে বন্দুক ছিল এমন অদ্ভুত কথা বিশ্বাস করবে।
‘দাদু, কিসব আজগুবি কথা বলছো! রাজার ছেলে ব্রাশফায়ার করবে কিভাবে? বন্দুক কই পাবে?’
‘আরে দাদুভাই, গল্পের প্রয়োজনে দুই একটা মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার বৈধ। আর মূল কথা তো সাত খুন, খুনের হাতিয়ার না।’
গজগজ করতে থাকে নাতি। ছোট মানুষ পেয়ে দাদু না জানি কী সব উল্টাপাল্টা বোঝাচ্ছেন। বলে চলেন দাদা, ‘তো কোথায় ছিলাম? ও হ্যাঁ, সেনাপতির ছেলে এবং তাদের খালাতো ভাইরা সেই প্রজাদের মেরে নদীতে সিস্টেম করে দিল।’
‘মানে কী? সিস্টেম আবার কী ধরনের কথা!’
‘আরে, তোমরা ‘ইয়োম্যান’ জেনারেশন, তোমরা সিস্টেম মানে বুঝো না? গুম, গুম।’
বলে চলেন দাদা, ‘কিন্তু সিস্টেম বেশি দিন টিকল না। লাশগুলো ভেসে উঠল। বেরিয়ে আসতে থাকল জড়িতদের নাম। সেনাপতি, উজির, আরও অনেকের নাম কিন্তু তারা সবাই ডিস্কো পার্টিতে ব্যস্ত ছিল’
‘আবার? রাজার আমলে ডিস্কো পার্টি কোথায় পেলে?’
‘আরে, মানে তারা নিশ্চিন্তে মজা করে বেড়াচ্ছিল, কারণ তারা ছিল ক্ষমতার শীর্ষে। তাদের সাত খুন তো মাফ হয়েই যাবে! তারা একে অপরকে বলল, রিল্যাক্স ম্যান!’
‘দাদুউউউউউউ? আবারও মশকরা?
‘আরে, ধরে নাও রিল্যাক্সম্যান বলেছে, গল্পে মজার দরকার আছে তো! নাহলে তো এইটা ভৌতিক হরর গল্প হয়ে যেত।’
‘খুনিদের বিচার হল না?’ নাতি জিজ্ঞেস করে উঠল।
জবাব দিলেন না বৃদ্ধ দাদু।
‘দাদাভাই, অনেক রাত হয়েছে, শুয়ে পড়’।
বৃদ্ধ দাদু সারারাত ভাবলেন। নাহ, গল্পের শেষটা ঠিকমতো হয়নি। গল্পের প্রয়োজনেই গল্পের শেষটা বদলাতে হবে।
পরের দিন দাদু গল্পটা আবারও শেষাংশ থেকে শুরু করলেন।
‘কিন্তু এই মামলার বিচারক ছিলেন নিষ্ঠাবান মানুষ। বিচারক দেখলেন, ভীষণ অন্যায় হচ্ছে তো!
‘তারপর?’ উৎসুক নাতির প্রশ্ন।
‘তারপর, বিচারক সেই ক্ষমতাধর অপরাধীদের সাজা দিয়ে দিলেন’
‘উহু, হয়নি,’ এবার নাতি বলে ওঠে।
দাদু বলেন, ‘তবে?!’
‘আরে দাদু কথায় বলে না, ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাবে ধান..’ অপরাধীরা এমন বাড় বাড়লো যে তাদের বাড়াবাড়িতে পরিস্থিতিটা একেবারে গণ্ডগোল হয়ে গেল। তাই বাঁচার আর কোনো পথই খোলা থাকলো না।’দাদা হাসতে লাগলেন। নাতির বুদ্ধিশুদ্ধি একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। বুদ্ধি বেশি হওয়া বড় ভয়ংকর ব্যাপার এ দেশে…।
দাদু শুরু করলেন।
একবার কাঠগড়ায় আসামিকে তোলা হল। আসামি দাঁত বের করে কাঠগড়ায় উঠল। বিচারক চশমার ফাঁক দিয়ে সেটা দেখে প্রশ্ন করলেন, ‘আসামি কি মানসিক ভারসাম্যহীন?’
উকিল বলেন, ‘জ্বি না হুজুর’
‘তাইলে হাসে কেনো?’
উকিল বলে, ‘ইয়ে, না মানে খুন করেছে তো, তাই’।
বিচারক হাঁক দিয়ে বললেন, ‘খুন করে আবার হাসেও! ব্যাটা আহাম্মক!’
আসামি হাসতে হাসতে বলে, ‘হুজুর, আমি একটা খুন করি নাই। সাতটা খুন করেছি!’
বিচারক অবাক হয়ে বলেন, ‘তো নির্লজ্জের মতো হাসছো কেন?’
‘সাত খুন মাফ না হুজুর?’
গল্পের এই পর্যায়ে নাতি জিজ্ঞেস করল, ‘সাত খুন মাফ কেন দাদু?’
দাদা বলতে থাকলেন, ‘বাংলা বাগধারায় ‘সাত খুন মাফ’-এর অর্থ অত্যাধিক প্রশ্রয়। শোনা যায়, অনেক দিন আগে এক সেনাপতির ছেলে ও তার খালাতো ভাইরা ব্রাশফায়ার করে কিছু প্রজা মেরে ফেলে’।
রাতুল দাদার ওপর এবার বেশ বিরক্ত হয়। সে ছোট, তাই বলে এত ছোট না যে রাজাগজাদের যুগে বন্দুক ছিল এমন অদ্ভুত কথা বিশ্বাস করবে।
‘দাদু, কিসব আজগুবি কথা বলছো! রাজার ছেলে ব্রাশফায়ার করবে কিভাবে? বন্দুক কই পাবে?’
‘আরে দাদুভাই, গল্পের প্রয়োজনে দুই একটা মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার বৈধ। আর মূল কথা তো সাত খুন, খুনের হাতিয়ার না।’
গজগজ করতে থাকে নাতি। ছোট মানুষ পেয়ে দাদু না জানি কী সব উল্টাপাল্টা বোঝাচ্ছেন। বলে চলেন দাদা, ‘তো কোথায় ছিলাম? ও হ্যাঁ, সেনাপতির ছেলে এবং তাদের খালাতো ভাইরা সেই প্রজাদের মেরে নদীতে সিস্টেম করে দিল।’
‘মানে কী? সিস্টেম আবার কী ধরনের কথা!’
‘আরে, তোমরা ‘ইয়োম্যান’ জেনারেশন, তোমরা সিস্টেম মানে বুঝো না? গুম, গুম।’
বলে চলেন দাদা, ‘কিন্তু সিস্টেম বেশি দিন টিকল না। লাশগুলো ভেসে উঠল। বেরিয়ে আসতে থাকল জড়িতদের নাম। সেনাপতি, উজির, আরও অনেকের নাম কিন্তু তারা সবাই ডিস্কো পার্টিতে ব্যস্ত ছিল’
‘আবার? রাজার আমলে ডিস্কো পার্টি কোথায় পেলে?’
‘আরে, মানে তারা নিশ্চিন্তে মজা করে বেড়াচ্ছিল, কারণ তারা ছিল ক্ষমতার শীর্ষে। তাদের সাত খুন তো মাফ হয়েই যাবে! তারা একে অপরকে বলল, রিল্যাক্স ম্যান!’
‘দাদুউউউউউউ? আবারও মশকরা?
‘আরে, ধরে নাও রিল্যাক্সম্যান বলেছে, গল্পে মজার দরকার আছে তো! নাহলে তো এইটা ভৌতিক হরর গল্প হয়ে যেত।’
‘খুনিদের বিচার হল না?’ নাতি জিজ্ঞেস করে উঠল।
জবাব দিলেন না বৃদ্ধ দাদু।
‘দাদাভাই, অনেক রাত হয়েছে, শুয়ে পড়’।
বৃদ্ধ দাদু সারারাত ভাবলেন। নাহ, গল্পের শেষটা ঠিকমতো হয়নি। গল্পের প্রয়োজনেই গল্পের শেষটা বদলাতে হবে।
পরের দিন দাদু গল্পটা আবারও শেষাংশ থেকে শুরু করলেন।
‘কিন্তু এই মামলার বিচারক ছিলেন নিষ্ঠাবান মানুষ। বিচারক দেখলেন, ভীষণ অন্যায় হচ্ছে তো!
‘তারপর?’ উৎসুক নাতির প্রশ্ন।
‘তারপর, বিচারক সেই ক্ষমতাধর অপরাধীদের সাজা দিয়ে দিলেন’
‘উহু, হয়নি,’ এবার নাতি বলে ওঠে।
দাদু বলেন, ‘তবে?!’
‘আরে দাদু কথায় বলে না, ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাবে ধান..’ অপরাধীরা এমন বাড় বাড়লো যে তাদের বাড়াবাড়িতে পরিস্থিতিটা একেবারে গণ্ডগোল হয়ে গেল। তাই বাঁচার আর কোনো পথই খোলা থাকলো না।’দাদা হাসতে লাগলেন। নাতির বুদ্ধিশুদ্ধি একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। বুদ্ধি বেশি হওয়া বড় ভয়ংকর ব্যাপার এ দেশে…।


0 Comments