Games

The Voice of Murarai

খুনিদের ফাঁসি চেয়ে মৌন মিছিল, রাস্তা অবরোধ

খুনিদের ফাঁসি চেয়ে মৌন মিছিল, রাস্তা অবরোধ
আশিস মণ্ডল, মুরারই, ১ অক্টোবর:আইনের ছাত্র খুনে জড়িতদের ফাসিঁর চেয়ে মৌন মিছিল করলেন গ্রামবাসীরা। এরপর একঘণ্টা প্রতীকী রাস্তা অবরোধ করা হয়। যদিও পুলিশ সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। প্রসঙ্গত, সেফাতুল্লা শেখ (২২) নামে এক আইনের ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা পর মুরারই ষ্টেশন সংলগ্ন জলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত ছাত্রের বাড়ি মুরারই থানার কাশিমনগরে। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বালুরঘাট ল'কলেজের ছাত্র ছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরিবারের পক্ষ থেকে মুরারই থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপরও সেফাতুল্লাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সন্দেহ হয় এক প্রতিবেশীর উপর। কারণ মাস ছয়েক আগে প্রতিবেশী আশিকুল শেখের স্ত্রী মুন্নি বিবির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল ওই ছাত্র। সে সময় গ্রামে বসে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায়। কিছু তারপরও আশিকুলরা সেফাতুল্লাকে সমানে হুমকি দিয়ে যেত বলে অভিযোগ। বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবারের লোকজন। ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ আশিকুল, তার স্ত্রী মুন্নি, ভাই মুক্তারুল শেখ এবং বাবা সাজ্জাদ শেখকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে মুক্তারুল। এরপরেই ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তারুলের বয়ান অনুযায়ী সন্ধ্যায় মুরারই স্টেশনের এক প্লাটফর্মের শেষে একটি কচুরিপানা ঢাকা পুকুর থেকে ছাত্রের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি জেরায় মুক্তারুল স্বীকার করেছে রামপুরহাট থাকা ভাড়াটে খুনিকে তুলে নিয়ে এসেছিল সে। ছক কষে ওই দিন রাত্রে সকলকে মুরারই স্টেশনের আসেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। মুক্তার বালুরঘাট থেকেই সেফাতুল্লাকে নজর বন্দী করেছিল। মালদা স্টেশনে গৌর এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে মুরারই ফিরছিল সেফাতুল্লা। স্টেশনের পিছন দিকে নামে সে। ট্রেন থেকে নামতেই কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর প্লাটফর্ম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে জলে ফেলে দেয়। পুলিশ ভাড়াটে খুনিকেও গ্রেফতার করেছে। পাঁচজনকেই চারদিনের হেফাজতে নিয়ে আরও কারা কারা ছিল তা জানার চেষ্টা করছে। মৃত সেফাতুল্লার ভাই আসমান রহমান বলেন, “দাদা আমাকে ফোনে ষ্টেশন যেতে বলে। সেই মতো আমি মোটরবাইক নিয়ে মুরারই স্টেশনে যায়। শেষবার কথা হয়েছিল রাত ১১ টার পরে। তখন ট্রেন ছিল পাকুড়ে। তারপর আর কথা হয়নি”। বাবা আতাউর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি চাই”।

Post a Comment

0 Comments